Free Tips and Trick

October 5, 2016

ইউটিউবে চ্যান্যাল তৈরি করে আয় করুন আজীবন

ইউটিউব থেকে আয়। অনলাইনে আয়ের হাজারও পদ্ধতির মধ্যে ইউটিউব থেকে আয় একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউব থেকেও আপনি আয় করতে পারবেন কইয়েকটি বিশেষ উপায় অনুসরন করে। ভিডিও তৈরি করে অনেকেই ইউটিউব থেকে আয় করছেন। তবে আপনি কেন পারবেন না।
নিচে কয়েকটা পদ্ধতি আলোচনা করা হলো। আপনি ভিডিও তৈরীর জন্য দুইটি পথ অবলম্বন করতে পারেন। প্রথমটা হলো- ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও তৈরি করুন। আর আপনার যদি কোনও ভিডিও ক্যামেরা না থাকে তাহলে আপনি এক্ষেত্রে আপনার কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন। একটা বিষয়কে মাথায় রাখবেন, তা হলো- আপনাকে অবশ্যই মজাদার/ শিক্ষনীয় ভালো মানের ভিডিও তৈরি করতে হবে। যদি আপনি আপনার চ্যানেলটিকে টিউটোরিয়ালের নির্ভর করতে চান তবে আপনি এখানে ভিডিও টিউটোরিয়ালই আপলোড করেন অন্য কিছু নয়। কিংবা যদি ভিডিও গান বা নাটক এর চ্যানেল বানাতে চান তবে তাও বেশ জনপ্রিয় হতে পারে। একটা কথা মাথায় রাখতে হবে আপনি যখন আপনার ভিডিও গুলি আপলোড দেবেন, তখন অবশ্যই আপনার কী-ওয়ার্ডগুলো দিয়ে দেবেন এবং সাথে সাথে আপনার ভিডিও এর ডেসক্রিপশনটাও দিয়ে দেবেন। এবার আপনার আপলোডকৃত ভিডিও বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে শেয়ার করুন। কারণ শুধু আপলোড করে দিলেই হবে না জনপ্রিয় হতে হলে আপনার ভিডিওগুলো বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট যেমন: ফেসবুক, টুইটার, গুগোল+ ইত্যাদি সমূহে শেয়ার করুন।

আয় করতে যা যা লাগবে নিম্নে তা উল্লেখ করা হল।
♦ Youtube Account তৈরি
♦ Camera
♦ Youtube account
♦ Google Adsense Account (১৮ কিংবা তার বেশি বয়স হতে হবে)
♦ Computer বা Mobile বা অন্য কিছু, যার দ্বারা আপনি Youtube-এ ঢুকবেন ।
♦ Regular Video Upload
প্রথমে একাউন্ড তৈরী করা দেখাব। 
YouTube Channel তৈরী
প্রথমেই আপনাকে Gmail ID এর মাধ্যমে একটি YouTube Channel তৈরী করে নিতে হবে। YouTube.Com এ গেলে নিচের ছবির মতো দেখতে পাবেন।

এখানে লাল দাগ চিহ্নিত Sign in এ ক্লিক করলে নিচের ছবির মতো দেখতে পাবেন।

Gmail ID এর মাধ্যমে Signup করে CREATE AN ACCOUNT ক্লিক করলে নিচের ছবির মতো পেজ দেখতে পাবেন।

এখানে My Chanel ক্লিক করলে নিচের ছবির মতো পেজ দেখতে পাবেন।

আপনার YouTube Channel তৈরী হয়ে যাবে। ভিডিও আপলোড করার  জন্য লাল দাগ চিহ্নিত আপলোড লিখাতে ক্লিক করুন। নিচের ছবির মতো পেজ দেখতে পাবেন।

প্রথমে লাল মাঝখানে ক্লিক করে Video Upload করুন।
যেই বিষয়গুলো মনে রাখবেনঃ
♦ Video’র Quality যেন ভাল হয় (আমি বলতে চাইছি, আলতু-ফালতু Video দিবেন না)
♦ Video যেন খুব বেশি বড় না হয়
♦ Account Type-এর দিকে লক্ষ রেখে Video upload করবেন ।
♦ ভাল Software-এর সাহায্যে Video Edit করলে ভাল হয় ।
ভিডিও আপলোড করার সময় কিছু কার্যকরী টিপস
♦ Regular ভিডিও আপলোড করবেন ।
♦ Tag নির্বাচন করবেন সঠিকভাবে ।
♦ ভিডিও description যেন প্রাঞ্জল ভাষায় হয়, সেদিকে লক্ষ রাখবেন ।
♦ দর্শকের পছন্দ-অপছন্দ কে প্রাধান্য দিন ।
♦ দর্শকের রুচি অনুযায়ী ভিডিও আপলোড করুন ।
♦ Camera ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে হবে ।
♦ আপনাকে প্রচুর সময় দিতে হবে ।
ইউটিউব থেকে আয় করার কয়েকটি উপায় নিচে বর্ননা করা হল।
ইউটিউব থেকে আয় করুন গুগল অ্যাডসেন্স দিয়ে
অ্যাডসেন্স হচ্ছে ইউটিউব থেকে আয় করার সবথেকে জনপ্রিয় এবং বড় মাধ্যম। আমরা অনেকেই জানি যে, ইউটিউব হচ্ছে গুগল এর একটি সেবা।
আবার গুগল অ্যাডসেন্স ও গুগলের। তাই ইউটিউব এর ব্যাপারে গুগলের প্রাধান্য অনেক।
এমনকি আপনি মাত্র কয়েকটা ছোট ছোট ভিডিও দিয়েই একটি অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট এপ্রুভ করাতে পারবেন।
আর সব থেকে মজার ব্যাপার হচ্ছে অ্যাডসেন্স এপ্রু ভাল পাওয়ার জন্য ইউটিউব হচ্ছে অন্যতম সহজ একটি পদ্ধতি।
সেরা আয়কৃত ব্যক্তি শুধুমাত্র ইউটিউব অ্যাডসেন্স ব্যাবহার করে মাসে কয়েক লক্ষ ডলার পর্যন্ত আয় করে থেকে।
এখন আপনাকে আপনার YouTube Channel এর মাধ্যমে Google AdSense এর জন্য আবেদন করতে হবে। এই AdSense এর মাধ্যমে আপনি টাকা উত্তোলন করবেন। এখন আবার বামপাশের Channel অপশন হতে Monetization অপশনে ক্লিক করে ডানপাশে Enable Monetization বাটন হতে Monetization একটিভ করে নিতে হবে। তারপর নিচের দিকে How Will Paid নামে আরেকটি অপশন পাবেন। সেখানে associate an AdSense account এ ক্লিক করে Next ক্লিক করে আপনার Gmail ID এর মাধ্যমে লগইন করে যাবতীয় তথ্য দিলেই আপনার AdSense Request চলে যাবে। এখন ২-৩ দিনের মধ্যে আপনার AdSense Approve এর মেইল আপনার ইনবক্সে চলে আসবে। এ নিয়ে পরে বিস্তারিত বলবো।
YouTube Partner হওয়া
বর্তমানে পৃথিবী ব্যাপী প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি ইউটিউব পার্টনার আছেন। পার্টনাররা ভাড়ার ভিত্তিতে ভিডিও অভারলেয় করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে এবং আয় ইউটিউব এর সাথে ভাগাভাগি করে নেয়। তাদেরদে অনেক সময় ব্রান্ডদের এন্টারটেইনার বা ভিডিও মার্কেটার হিসেবে হায়ার করাও হয়ে থাকে। অনেক সময় একটা ব্রান্ডের জন্য বিশেষ ভিডিও তৈরি করেও এরা অনেক টাকা উপার্জন করে। আপনার তৈরীকৃত চ্যানেলে বামপাশের অপশন হতে My Channel এ ক্লিক করলে আপনার YouTube Channel টি দেখতে পাবেন। আপনার Channel টির নামের উপরে Video Manager নামে আরেকটি অপশন দেখতে পাবেন সেটিতে ক্লিক করুন। এখন বামপাশের Channel অপশনে ক্লিক করার পর ডানে অনেক অপশন দেখতে পাবেন। সেখানে আপনার নামের পাশে থাকা Partner হতে মোবাইল নাম্বার দিয়ে Partner Verified করতে হবে। Partner Verified না করলে আপনার ভিডিও গুলিকে Monetized করতে পারবেন না।
এফিলিয়েট প্রোডাক্ট এর রিভিউ করে
এটি ইউটিউব ব্যাবহারের আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম। এই ক্ষেত্রে মানুষ আমাজন বা অন্য কোন এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক এর পণ্যের এফিলিয়েশন করে থাকে। সাধারনত নিজের এফিলিয়েট লিঙ্ক ভিডিও এর ডেসক্রিপশনে দিয়ে দেওয়া হয় এবং ভিডিও তে সেই প্রোডাক্ট সম্পর্কে রিভিও প্রদান করা হয়। সেই ভিডিও থাকাকালীন কেউ যদি ঐ লিঙ্কের মাধ্যমে গিয়ে কোন পণ্য ক্রয় করে থাকে তবে এফিলিয়েটর কমিশন পায়। এইভাবে এফিলিয়েশন করলে খুবই কম খরচে বা বিনা খরচে আপনি সহজেই মাস গেলে অনেক টাকা কামিয়ে নিতে পারবেন।
নিজের পণ্য বিক্রি করে
ধরুন আপনার নিজের একটা ফ্যাশন হাউজ আছে। এখন আপনি যদি নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ডজ সম্পর্কে কিছু ভিডিও তৈরি করেন এবং সাথে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে কিছুটা রিভিও যুক্ত করে আপলোড করেন তবে ইউটিউব হতে পারে আপনার নিজের পণ্য মার্কেটিং এর সবথেকে বড় মাধ্যম। এখন আপনি বলতে পারেন যে এভাবে কত জনই বা কিনতে পারে। কিন্তু আপনি জানেন কি ইউটিউব এ আপনি কি পরিমান ভিসিটর পেতে পারেন? যেকোনো বিষয়ের উপর ভিডিও গুলোর ভিউ থেকে আপনি সহজেই তা বুজতে পারবেন। আর সবথেকে বড় ব্যাপার হচ্ছে ওয়েব সার্চ এর তাবৎ ক্রয়যোগ্য (অর্থাৎ যে কীওয়ার্ড গুলো দিয়ে মানুষ কোন প্রোডাক্ট কিনার জন্যই সার্চ করে) সার্চের বেশিরভাগটাই ইউটিউবে হয়। মানে কেউ কোন পণ্য কিনার জন্য মন স্থির করলে সেই পণ্য সম্পর্কে জানতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইউটিউব ভিডিওই দেখে থাকে।

কিভাবে ইউটিউব থেকে আয় বাড়াবেন

♦ ভিডিওটির বর্ণনা দেয়াঃ নতুন ভিডিও আপলোড করার পর সাথে সাথে ভিডিওটি সম্পর্কে তার নিচে বর্ণনা দিয়ে দেবেন। তাহলে YouTube সহজে আপনার ভিডিওটি সম্পর্কে ধারনা পেয়ে যাবে। এতেকরে YouTube নির্ধারিত টপিক অনুযায়ী ভিজিটদের কাছে ভিডিওটি পৌছে দেবে।
♦ নিয়মিত ভিডিও তৈরীঃ নিয়মিত নিত্য নতুন ভালমানের ভিডিও আপলোড করার চেষ্টা করবেন। তাহলে আপনার Channel টির Viewer বাড়তে থাকবে। আর Viewer বাড়া মানেই হচ্ছে আপনার আয় বেড়ে যাওয়া।
♦ ভিডিও শেয়ার করাঃ ভিডিও পাবলিশ করার পর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম, যেমন-ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস ইত্যাদি সাইটগুলিতে আপনার ভিডিও শেয়ার করতে পারেন।
♦ ব্যাক লিংক তৈরীঃ আপনি যে বিষয় নিয়ে ভিডিও টিউটোরিয়াল বা ভিডিও তৈরী করছেন এরকম অন্য জনপ্রিয় সাইটগুলিতে আপনার ভিডিওটির লিংক দিয়ে দিতে পারেন। এতে করে সেখান থেকেও আপনার সাইটে প্রচুর ভিজিটর পেয়ে
শেষ কথা
♦ কিছু দর্শক খারাপ মন্তব্য করবেই, এতে ভেঙে পড়বেন না ।
♦ প্রথম প্রথম ভাল আয় হবে না । এতে ভিডিও আপলোডের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলবেন ?? না, কখনই না।
আশাকরি পোষ্টটি আপনাদের অনেক কাজে দিবে।
ভাল লাগলে পোষ্টটি শেয়ার করবেন।
Share:

0 comments:

Post a Comment

Copyright © Fibd - Tips & Trick Sharing BD | Powered by Blogger Design by ronangelo | Blogger Theme by NewBloggerThemes.com|Distributed By Blogger Templates20