Free Tips and Trick

January 14, 2017

ভালবাসার গল্প - জোড় করে ভালোবাসা।

ভালবাসার গল্প - জোড় করে ভালোবাসা

-আপনি কেনো আমার পিছু নিয়েছেন ( আবির)
-আপনাকে ভালোবাসি বলে (রাইসা)
-আমি তো আপনাকে অনেক বার বলেছি , আমি আপনাকে
ভালোবাসি না। (আবির)
-কিন্তু আমি তো ভালোবাসি। (রাইসা)
-আমি আপনের যোগ্য পাত্র না। আমার চেয়ে আপনি
অনেক সুন্দর ছেলে পাবেন। (আবির)
-আমার বেশি সুন্দর ছেলের দরকার নাই। আমার
আপনাকেই চাই।
আর কি বললেন আমার যোগ্য না আপনি, আর একবার
বললে আপনার মাথাটা ফাটাই দিমু।(রাইসা)
-আপনি একটা কুকুর, যাকে হাজার অপমান করলেও যায়
না।(আবির)
-আপনি যতই গালি দেন, অপমান করেন আমি যাচ্ছি না।
(রাইসা)
-কি চান আমার কাছে (আবির)
-ভালোবাসতে চাই। (রাইসা)
-ভালো তো বাসছেন।
-আমি একা কেনো ভালোবাসবো, আপনাকেও
ভালোবাসতে হবে।
-আমি পারবো না।
-আমি ছাড়বো না।
-আপনি থাকুন, আপনের সাথে বকবক করার সময় নাই আমার।
-আচ্ছা চলেন, আমিও যাবো।
-আপনের যাওয়া লাগবে না। আপনি থাকুন।
-তাহলে ফোন নাম্বার টা দিয়ে যান।
-দিবো না নাম্বার।
-তাহলে চলুন আপনের সাথে যাবো।
-০১৭৯০----যখন তখন ফোন করবেন না।
-দেখে শুনে বাড়িতে যাবেন।
.
আবির হেঁটে হেঁটে বাড়ির দিকে যাচ্ছে।
তবে মাথাই বিশাল বড় চিন্তা। চিন্তার একমাত্র কারন
হলো রাইসা ।
মেয়েটা কোন ভাবেই পিছু ছাড়ছে না।
সবসময় আঠার মতন লেগেই আছে।
কতবার বলবো রাইসা আমি আপনাকে ভালোবাসি না।
কিন্তু ওনি সেটা বুঝেন না।
.
-হ্যালো কে বলছেন (আবির)
-আমি রাইসা বলছি, আপনার হবু প্রেমিকা। (রাইসা)
-আপনাকে এখন ফোন দিতে বলেছি আমি।
এখন কেনো ফোন দিয়েছেন।
-দেখলাম নাম্বারটা ঠিক আছে কিনা।
-নাম্বার ঠিকি আছে এখন ফোন রাখুন।
আবির ফোনটা কেটে দিয়ে পকেটে রাখলো।
এবার একটু দ্রুত হাঁটতে লাগলো, সন্ধ্যা হয়ে আসছে,
দুপুরের খাওয়া হয়নি,মেসে গিয়ে খেতে হবে।
.
মেসে এসে আবির দুপুরের খাবার রাতে খেলো। কি আর
করা মেসের ছেলেদের জীবনটা এমনি।
রাত্রি আটটা বাজে।
আবির মেস থেকে বের হয়ে ফুটপাতের কাছে এসে
বসলো।
পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করলো।
সিগারেট ধরানোর প্রস্তুতি নিতেই, হাতে সিগারেট
নাই।
-সিগারেট আর খাওয়া চলবে না (রাইসা)
-আপনি এখানে কি করে এলেন। (আবির)
-আপনাকে ফলো করে চলে এসেছি। (রাইসা)
-সিগারেট টা দিন। (আবির)
-না আজকে থেকে সিগারেট খাওয়া বাদ।
কি অবস্থা করেছেন ঠোটের।
একদম পুড়ে কালো হয়ে গিয়েছে।
-এতে আপনার কি।
-আমার অনেক কিছু। আমার মুল্যবান জিনিষ নষ্ট হয়ে যাক
আমি সেটা চাই না।
-হা হা হা।
-হাঁসেন কেনো।
-আমি মুল্যবান।
-কারো কাছে না হলেও আমার কাছে।
-এখন যান তো। আমি কতবার বলবো আপনাকে
ভালোবাসি না।
-আমিও কতবার বলবো আমি আপনাকে ভালোবাসি।
-আচ্ছা আমার জন্য কি কি করতে পারবেন।
-সব করতে পারবো সব।
-একটি রাত থাকবেন আমার সাথে।
একরাত পরেই বুঝবো আপনি আমাকে ভালোবাসেন কিনা।
কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে রাইসা ।
রাইসা বুঝতে পারছে কি হবে সেই রাতে।
এইবার আর রাইসা আমাকে জ্বালাবে না।
কি কথা বলুন। কথা বন্ধ হয়ে গেলো কেনো।
-ওকে কালকের রাত আপনার জন্য।
আমি আসবো।
রাইসা কথাটি বলেই সেখান থেকে চলে গেলো।
.
বসে বসে আবার সিগারেট টানছি।
আচ্ছা মেয়েটা কি আসবে কাল রাতে।
তাঁর সব কিছু বিলিয়ে দিতে।
আচ্ছা আমাকে কি সত্যিই ভালোবাসে রাইসা।
কাল যদি সে আসে তাহলে সে সত্যিই আমাকে
ভালোবাসে।
আমার মাঝে এমন কি আছে যে মেয়েটা আমাকে এতো
ভালোবাসে।
সিগারেট শেষ করে মেসে ফিরে আসলাম। ঘুম আসবে না
জানি,তবুও মিছে ঘুমাবার চেষ্টা করলাম। বাবা মা হারা
সন্তানের আবার ঘুম।
.
সকাল দশটাই ঘুম থেকে উঠলাম।
বারোটার সময় একটা টিউশানি করাই।
হালকা নাস্তা করে টিউশানি করিয়ে আবার মেসে চলে
আসলাম।
গোছল করে না খেয়ে শুয়ে পড়লাম।
টাকা খুব কম তাই রাতে একবারে খাবো।
.
ফোন বাজছে,কিন্তু ধরতে মন চাইছে না তবুও ধরলাম।
-আপনি কোথাই (রাইসা)
-কে আপনি( আবির)
-ভুলে গেছেন এতো তারাতারি। (রাইসা)
-আপনি। কেনো ফোন করেছেন(আবির)
-আমি আপনার মেসের সামনে দাড়িয়ে আছি।
-ঘুম থেকে উঠে বাইরে এসে দেখলাম রাইসা দাড়িয়ে
আছে।
হলুদ একটা বোরকা পরে এসেছে।
চোখ দুটো শুধু খোলা।
অনেক সুন্দর লাগছে রাইসাকে দেখতে।
কাজল দেওয়া চোখে, পায়ে নুপুর, এক কথাই রাইসাকে
দেখতে অপরুপ লাগছে।
আচ্ছা মেয়েদেরকে নুপুর পরলে অনেক সুন্দর লাগে
কেনো।
-কি জন্য এসেছেন।
কোন কথা না বলে রাইসা খুব দ্রুত মেসের ভিতরে আমার
রুমে চলে গেলো।
ছোট একটা রুম আমি একাই থাকি।
আমিও রুমে গেলাম।
-রুমে কেনো আসলেন। (আবির)
-রাতের কাজটা এখন সেরে নিবেন। রাতে আসতে পারবো
না বাড়ি থেকে সমস্যা আছে। কথা গুলো বলেই রাইসা
কেঁদে উঠলো।
-আরে কাঁদছেন কেনো।
-কোন কথা না বলে রাইসা আমাকে জড়িয়ে ধরলো। যতই
ছাড়ানোর চেষ্টা করছি ছাড়ছে না।
-আপনি আমাকে ছাড়ুন, আর কাঁদা বন্ধ করুন।
-না ছাড়বো না, আগে বলেন ভালোবাসি।
-কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। মেয়েটা আমাকে এতো
ভালোবাসে।
আমার জন্য এখানে চলে এসেছে তার সব দিয়ে দেবার
জন্য।
মেয়েটাকে কি বলবো ভাবছি।
-সত্যি ভালোবাসেন আমাকে।(আবির)
-হুম সত্যি। (রাইসা)
-পারবেন সারাটাজীবন পাশে থাকতে।
-পারবো,কারন আপনাকে ঘিরেই তো আমার পৃথিবী।
-এখন ছাড়ুন।
-আগে ভালোবাসি বলেন।
-ভালোবাসি।
-এভাবে না।
-আমি আপনাকে ভালোবাসি, আপনি কি আমার সুখ
দুঃখের সাথী হবেন।
-হবো। কিন্তু?
-কিন্তু কি?
-আজকে থেকে আপনি নয়,তুমি করে বলবে।
-ওকে আপনি যেটা বলবেন সেটাই হবে।
-আবার আপনি।
-ওহ সরি, তুমি।
-হুম, এখন চলো।
-কোথাই।
-আজকে তুমি আর আমি মিলে ঘুরবো।
-ওকে চলো।
শুরু হলো আরেকটি নতুন সম্পর্কের।

লিখা :- রাফি ( পড়া চোর)
Share:

0 comments:

Post a Comment

Copyright © Fibd - Tips & Trick Sharing BD | Powered by Blogger Design by ronangelo | Blogger Theme by NewBloggerThemes.com|Distributed By Blogger Templates20